গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রেস সচিব। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো।
শফিকুল আলম জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকবে, যেখানে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন। এই গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ইইউ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এবারের নির্বাচনে বড় একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। অতীতে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কারণ হিসেবে তারা আগের তিনটি নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য মনে না করার কথা উল্লেখ করেছিল।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিদ্যমান রয়েছে এবং সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে না।
তবে নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উল্লেখ করেন তিনি। শফিকুল আলম বলেন, পতিত সরকারের সংশ্লিষ্টরা সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ বলেন, নরসিংদীতে মুদি ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডটি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে, এটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। তিনি স্পর্শকাতর বিষয়ে মন্তব্য বা বিবৃতি দেওয়ার আগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ সবার প্রতি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।