মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে গুলি করে সাহিদা ইসলাম রাফা ওরফে সাহিদা আক্তার নামের তরুণীকে হত্যায় অভিযুক্ত তৌহিদ শেখ তন্ময়কে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। রোববার রাতে ভোলার ইলশা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার সকালে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রিভলবারটি উদ্ধার করা হয়েছে। সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখা তথা ডিবির ওসি মো. ইশতিয়াক রাসেল।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার তৌহিদকে নিয়ে সাহিদা আক্তারের লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে ডিবি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তৌহিদ। তার বাড়ি রাজধানীর ওয়ারী এলাকায়।
শনিবার সকালে শ্রীনগরের দোগাছি এলাকার এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন থেকে সাহিদার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় লাশের পাশ থেকে ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, গুলি করে ওই তরুণীকে হত্যার পর চলন্ত গাড়ি থেকে মরদেহ এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে রেখে যায় ঘাতক। ওইদিন মধ্যরাতে নিহতের মা জরিনা খাতুন বাদী হয়ে তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান আসামি করে শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সাহিদা ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানার বেগুনবাড়ি বরিবয়ান গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মোতালেবের মেয়ে। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় থাকতেন। সাহিদা সঙ্গে তৌহিদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।
হত্যার বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, ওই দিন ভোরে ওই তরুণীকে এক যুবকের (তৌহিদ শেখ তন্ময়) সঙ্গে মহাসড়কে হাঁটতে দেখা গেছে। এর এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর তরুণীর গুলিবিদ্ধ লাশ মহাসড়কে পড়ে থাকতে দেখতে পান পথচারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ পুলিশকে জানান, ওই যুবককে শ্রীনগরের সার্ভিস লেনে দৌড়াতে দেখা গেছে। তার পেছনে পেছনে এক তরুণী দৌড়াচ্ছিলেন।
শ্রীনগর থানার ওসি কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরী জানান, মরদেহের পাশ থেকে ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভোরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।