অধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও কোচ জাবি আলোনসোর বিদায়ের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছিল রিয়াল মাদ্রিদের খেলায়। তবে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিতের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। হোসে মরিনিয়োর বেনফিকার বিপক্ষে নাটকীয় এক ম্যাচে ৪-২ গোলে হেরে পয়েন্ট টেবিলে নয় নম্বরে নেমে গেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। ফলে সরাসরি শেষ ষোলো নয়—তাদের খেলতে হবে প্লে-অফ পর্বে।
বুধবার (গতকাল) রাতে একই সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেওয়া ৩৬ দলের সবাই মাঠে নামে। ইতোমধ্যে দুটি দল শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও বাকি দলগুলোর সামনে ছিল টিকে থাকার কঠিন সমীকরণ। প্রতিযোগিতার শুরুতে শীর্ষ সারিতে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এই ম্যাচ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু লিসবনের আলোঝলমলে মাঠে শেষ পর্যন্ত ধরাশায়ী হয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
ম্যাচের ৩০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ধারাবাহিক আক্রমণে রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে দেয় বেনফিকা। বিরতির আগেই ম্যাচে ফিরে আসে পর্তুগিজ ক্লাবটি এবং ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নেয় নিজেদের হাতে।
দ্বিতীয়ার্ধে আবারও এমবাপের গোলে ব্যবধান কমালেও ম্যাচের গতি পুরোপুরি ছিল স্বাগতিকদের দখলে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে বেনফিকা তখন ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে। ইনজুরি সময় রিয়ালের দুর্ভাগ্য আরও ঘনীভূত হয়—পরপর দুটি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রাউল অ্যাসেন্সিও ও রদ্রিগো গোয়েস। দশজন নয়, শেষ দিকে রিয়াল দাঁড়িয়ে পড়ে নয়জন নিয়ে।
সংখ্যাগত সেই দুর্বলতাকেই পুরোপুরি কাজে লাগায় মরিনিয়োর দল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তার চূড়ান্ত দৃশ্যপট তৈরি করেন বেনফিকার গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিন। গোলবার ছেড়ে উঠে আসা ফ্রি-কিকে হেড করে গোল করে রীতিমতো ইতিহাস গড়েন তিনি। তার গোলেই ৪-২ ব্যবধানে নিশ্চিত হয় বেনফিকার বড় জয়।
পরিসংখ্যান বলছে, বল দখলে রিয়ালই এগিয়ে ছিল—৫৩ শতাংশ পজেশন ও ১৪টি শটের মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে। তবে কার্যকারিতায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল বেনফিকা। তারা নেয় ২২টি শট, যার ১২টিই ছিল লক্ষ্যে।
এই হারের ফলে ম্যাচের আগে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ নেমে গেছে নয় নম্বরে। নিয়ম অনুযায়ী ৯ থেকে ২৪ নম্বর দলগুলো প্লে-অফ খেলে শেষ ষোলোর বাকি আটটি স্থান পূরণ করবে। অন্যদিকে, টেবিলের শেষ প্রান্তে থাকা বেনফিকা এই জয়ে প্লে-অফে টিকে থাকার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ—প্লে-অফের কঠিন বাধা পেরিয়েই কেবল মিলবে শেষ ষোলোর টিকিট।