পদত্যাগের পর থেকে বিএনপি ও জামায়াতের সমালোচনা না করে চুপ থাকতে বলা হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী তাজনূভা জাবীন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি টেলিভিশন টকশোর ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি এ কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে তাজনূভা জাবীন লেখেন, পদত্যাগের পর থেকে তাঁকে বারবার সাবধান করা হচ্ছে যেন তিনি বিএনপি–জামায়াতের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য না করেন এবং চুপ থাকেন। তবে তিনি দাবি করেন, আল্লাহ ছাড়া তাঁকে থামানোর ক্ষমতা কারও নেই।
শেয়ার করা ভিডিওতে তাজনূভা জাবীন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কথার সঙ্গে কাজের বড় ধরনের ফারাক থাকলে নতুন রাজনীতির দাবি বিশ্বাসযোগ্য থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার বহিষ্কার প্রসঙ্গে তাজনূভা জাবীন বলেন, দলীয় আলোচনার বিষয় হলেও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত একটি নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় শোকের সময় পার হওয়ার পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে যেসব নারী যুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের ধীরে ধীরে প্রান্তিক করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ জুলাই রোকেয়া হল থেকে নারীদের আন্দোলনে নামাকে তিনি গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন।
নারী প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে তাজনূভা জাবীন বলেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন বণ্টনে নারীদের গুরুত্ব দেয়নি। সব দল মিলিয়েও মাত্র ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ নারী প্রার্থী দিয়েছে, যেখানে দেশের মোট ভোটারের ৫২ শতাংশ নারী। অথচ নারীদের নিয়ে বাস্তবসম্মত কোনো নীতিগত অবস্থান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাবেক এই এনসিপি নেত্রীর অভিযোগ, গণ-অভ্যুত্থানে পরিচিত হওয়া নারী নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বলি হয়েছে। নতুন রাজনীতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।