সমঝোতার পথে গিয়ে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে হবে ও সেই সাথে স্বৈরাচার যাতে ফিরে না আসতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আজ রোববার ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৃতীয় ধাপের সংলাপের দ্বিতীয় দিনে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, স্বৈরাচার আসার ফিরে সব পথঘাট বন্ধ করা হবে। যাতে কোনদিক দিয়ে স্বৈরাচার আসতে না পারে। বাকিটা আমরা জানি। স্বৈরাচার বন্ধ করতে হলে সবাইকে একমত হয়ে কাজ করতে হবে। দ্বিমতের জায়গা নেই। এ বিষয়ে দ্বিমত হলে কোনো কাজ সমাপ্ত করতে পারব না।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেটি হবে ‘জাতির নবজন্মের মহোৎসব।’
তিনি বলেন, ‘শুরুতে যখন কমিশনের ধারণা এল। আমি নিশ্চিত ছিলাম না, এটা টিকবে কি না। কিন্তু আজ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পরে আপনাদের আলোচনা ও সিদ্ধান্তে আমি অভিভূত হয়েছি।’
তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এবার আমাদের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঐকমত্যের এই পথেই আমরা এগোবো। নির্বাচন সফল করব এবং জাতি হিসেবে মহাউৎসবের যাত্রা শুরু করব।’
জুলাই সনদ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখান থেকে বের হওয়ার উপায় নাই। যে সমঝোতার রাস্তা শুরু করেছি, তা থেকে বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ সমঝোতায় আসতেই হবে। আমি হয়ত গায়ের জোরে বলছি। কিন্তু কথাটা ফেলে দেওয়ার উপায় নেই। জাতি হিসেবে আমাদের নবযাত্রার সুযোগ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দিয়ে গেল। সেটার একমাত্র সমাধান হল সমঝোতার পথে গিয়ে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করা। আমরা নানা যুক্তি দিতে পারি। যুক্তির কোনো শেষ নাই। কিন্তু সমাধানের পথে থাকতে হবে। অনেকের মনে হয়তো কষ্ট হবে। কষ্ট হলেও মেনে নিচ্ছি। কিন্তু পরে শান্তি পাবেন। দেশ শান্তি পাবে বলে। কারণ, দেশের শান্তি বড় শান্তি।
এসময় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।