ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করা অনন্য গাঙ্গুলীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজার পাড়ায় নিজ বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অনন্য গাঙ্গুলী ছিলেন কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাধারানী ভট্টাচার্য্যের বড় সন্তান। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। অনন্যর ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
অনন্যর শিক্ষাজীবন শুরু থেকেই ছিল উজ্জ্বল। পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি—তিনটি পরীক্ষাতেই কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বৃত্তি পেয়েছিলেন তিনি। তবে কলেজে ওঠার পর মানসিক অসুস্থতাসহ নানা কারণে প্রায় পাঁচ বছর পড়ালেখা থেকে দূরে ছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনায় ফিরে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। ওই পরীক্ষায় তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১০৩ দশমিক ৯৫। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অনন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, সেই মানসিক যন্ত্রণার কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অনন্যর বাবা জানান, ছেলে অত্যন্ত মেধাবী হলেও বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।