তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছেন। সোমবার তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৮ সালের নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন না, তবে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। এতে যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধানসিদ্ধ দুই মেয়াদের সীমা অতিক্রম করে ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার নতুন ঢেউ উঠেছে।

মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। কিন্তু ট্রাম্পের কিছু ঘনিষ্ঠ সহযোগী এই আইনি বাধা এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য পথ খুঁজছেন। কেউ কেউ বলছেন, ট্রাম্প যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন এবং নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট পদধারী ব্যক্তি পরে পদত্যাগ করেন, তবে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে পারেন।

সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা করতে চাই। আমার জনসমর্থন এখন সবচেয়ে বেশি।” সাংবাদিকেরা যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি তাহলে তৃতীয় মেয়াদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, ট্রাম্প বলেন, “আমি কি এটা উড়িয়ে দিচ্ছি না? আপনাদেরকেই সেটা বলতে হবে।”

আরেকবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বৈধতা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামতে তিনি প্রস্তুত কি না , এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমি সত্যি বলতে, এ নিয়ে ভাবিনি।”

৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প যদি ২০২৮ সালে আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়েন, তখন তাঁর বয়স হবে ৮২ বছর। তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট। তবে বয়স বাড়লেও ট্রাম্প এখনো সক্রিয়ভাবে সরকারি কাজ ও সফর চালিয়ে যাচ্ছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক শক্তি ও আগ্রহের পরিচায়ক।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বারবার প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বয়স নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। এবার তিনিই নিজের বয়সসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

ট্রাম্প সোমবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ‘মহান মানুষ’ বলে প্রশংসা করেন। এই দুইজন ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রাইমারিতে লড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ২২তম সংশোধনী এড়িয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই তৈরি হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “ট্রাম্পই ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। সঠিক সময়ে আমরা পরিকল্পনাটি প্রকাশ করব। একটি পরিকল্পনা আছে।”

ব্যাননের এমন মন্তব্য ও ট্রাম্পের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে রিপাবলিকান দলের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *