দীর্ঘ দুঃসময় আর সমালোচনার চাপ সামলে অবশেষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পুরোনো রূপে ফিরল রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফরাসি ক্লাব মোনাকোকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।
শিরোপাহীন মৌসুম শেষে জাবি আলোনসোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও চলতি মৌসুমে ধারাবাহিকতা পায়নি রিয়াল। এল ক্লাসিকোতে হার, এমনকি স্পেনের দ্বিতীয় স্তরের দলের বিপক্ষে পরাজয়—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছিল ক্লাবটি। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজারা মোনাকোর বিপক্ষে দেখাল চেনা দাপট।
মঙ্গলবার রাতে আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে মাঠে নামে রিয়াল। ম্যাচে ৫৩ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২৩টি শট নেয় তারা, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে মোনাকো ১৮ শটের মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে রাখতে পারলেও কার্যকর আক্রমণে পিছিয়ে ছিল।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় রিয়াল। ফ্রেদেরিকো ভালভার্দের পাস থেকে এক ছোঁয়ায় গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। ২৬ মিনিটে আবারও এমবাপের প্লেসিং শটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। চলমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি এমবাপের ১১তম গোল, যা এক আসরে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।
বিরতির আগে মোনাকো কয়েকটি সুযোগ পেলেও জর্ডান তেজের শট ক্রসবারে লাগে এবং আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকান থিবো কোর্তোয়া।
বিরতির পর রিয়ালের আধিপত্য আরও বাড়ে। ম্যাচের ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে দূরের পোস্টে নিখুঁত শটে গোল করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো। ৫৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের বাড়ানো বলে আত্মঘাতী গোল করেন মোনাকোর ডিফেন্ডার থিলো কেহরার।
৬৩ মিনিটে নিজেই গোলের খাতায় নাম লেখান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আর্দা গুলারের পাস থেকে নেওয়া তার জোরালো শট ক্রসবার ছুঁয়ে জালে ঢুকে যায়। ৭২ মিনিটে রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলে সান্ত্বনার এক গোল পায় মোনাকো, জর্ডান তেজে সেটি কাজে লাগান।
৮০ মিনিটে ভালভার্দের থ্রু পাস থেকে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান জুড বেলিংহ্যাম। শেষ পর্যন্ত ৬-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।
এই জয়ে ইউসিএলের পয়েন্ট টেবিলে বড় লাফ দিয়েছে রিয়াল। সাত ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন দ্বিতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। অন্যদিকে সাত ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ২০ নম্বরে অবস্থান করছে মোনাকো।