পশ্চিমবঙ্গে অভাবনীয় বিজয় পেয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি। এই জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বাংলায় পদ্ম ফুটেছে’—যা দলটির নির্বাচনী প্রতীকের প্রতীকী উল্লেখ।
ভারতের স্বাধীনতার প্রায় ৭৯ বছরের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ মূলত তিনটি রাজনৈতিক শক্তির অধীনে শাসিত হয়েছে—কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস প্রায় ৩০ বছর, বামফ্রন্ট ৩৪ বছর এবং তৃণমূল কংগ্রেস ১৫ বছর টানা ক্ষমতায় ছিল।
উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য পরিচিত এই রাজ্যে বিজেপির এমন উত্থান অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৩টি আসন পাওয়া দলটি ২০২১ সালে ৭৭টি আসনে উন্নীত হয়। আর ২০২৬ সালে এসে তারা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
এই বিজয়ের ফলে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একই সময়ে অনুষ্ঠিত অন্যান্য রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপি আসাম ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে জয় পেয়েছে।
অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। সেখানে ক্ষমতাসীন ডিএমকে পরাজিত হয়েছে নবগঠিত দল টিভিকে’র কাছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। কেরালায় বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টকে হারিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) জয়লাভ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গে এই বড় জয় তাদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১২টি আসন পেয়েছিল, যা ২০১৯ সালের তুলনায় কম ছিল। তবে বর্তমান বিজয় সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সীমান্ত বাণিজ্য, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, অভিবাসন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এসব বিষয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে রাজ্য সরকারের ভূমিকা সীমান্তবর্তী সহযোগিতা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা সংযোগেও প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে আরও সক্রিয় ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি পরিচালনা করতে হতে পারে।