নরওয়ের ছোট্ট ক্লাব বোদো/গ্লিমট চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি গড়েছে। ২০১৭ সালে নরওয়ের দ্বিতীয় স্তরের ফুটবল খেলেছিল এই ক্লাবটি। রাজধানী ওসলো থেকে গাড়িতে ১৬ ঘণ্টা দূরে অবস্থিত আর্কটিক সার্কেলের প্রান্তের বোদো শহরের জনসংখ্যা মাত্র ৫৫ হাজার। ইউরোপা লিগে সেমিফাইনালে ওঠার পর চলতি মৌসুমে তারা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নিল।
টুর্নামেন্টের প্রথম ছয় ম্যাচে কোনো জয় না পাওয়া দলটি অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে প্লে অফে ওঠে। বড় চমক অপেক্ষা করছিল, আর তা দেখা গেল। গতবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল হেরে যাওয়া ইন্টার মিলানকে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে হারিয়ে বোদো/গ্লিমট প্রথম নরওয়েজিয়ান ক্লাব হিসেবে শেষ ষোলোতে উঠল।
নরওয়েজিয়ান লিগ শীতকালীন বিরতির কারণে ৩০ নভেম্বর থেকে কোনো লিগ ম্যাচ খেলেনি বোদো। মাঠে খেলে প্রস্তুতির ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে সবগুলোতে সাফল্য দেখিয়েছে তারা। জানুয়ারির আগে কোনো ম্যাচ না জেতা দলটি ম্যানসিটি, অ্যাটলেটিকোকে হারানোর পর ইন্টারকে দুইবার পরাজিত করল। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে আয়াক্সের পর ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরের প্রথম দল হিসেবে ইউরোপিয়ান শীর্ষ প্রতিযোগিতায় টানা চার ম্যাচ জিতল বোদো।
ইন্টারের নতুন কোচ ক্রিস্টিয়ান চিভু বোদোর এই সাফল্যকে কাকতালীয় বলছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই পর্যায়ে কোনো দল আসতে পারা মানে, তাদের মধ্যে কিছু একটা আছে, এবং তারা সেটা প্রমাণ করেছে। বোদো যোগ্য দল হিসেবে শেষ ষোলোতে উঠেছে।’
ইন্টার মিডফিল্ডার নিকোলো বারেলা হারের পর বলেন, ‘বোদো দুটো ম্যাচই জিতেছে। যোগ্য দল হিসেবে তারা এগিয়েছে। আমাদের সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার ছিল গোল করা, আমরা সেটা পারিনি।’
পরিসংখ্যান বোদোর জয়কে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারছে না। পুরো ম্যাচে ইন্টার ৩২টি শটের মধ্যে ৭টি লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছে, আর বোদো ১৯২টি পাসের বিপরীতে তাদের ছিল ৫৫২টি। চিভু বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিতে হবে এবং অভিনন্দন জানাতে হবে। কারণ তাদের যা করার দরকার, তারা করেছে।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই কীর্তি প্রমাণ করে যে, ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর বিপক্ষে নির্ধারিত শক্তিশালী দল না থাকলেও, পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা ও একাগ্রতায় ছোট ক্লাবও সাফল্য অর্জন করতে পারে।