খামেনির মৃত্যুর খবরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, প্রতিশোধের অঙ্গীকার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবির পর দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য গভীরভাবে শোকাহত। মানবতার নিষ্ঠুর শত্রুদের হাতে তার শাহাদাৎ প্রমাণ করে, তার নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম শত্রুদের জন্য আতঙ্কের কারণ ছিল।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যারা আমাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে—তাদের এই জাতি কখনও ক্ষমা করবে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একটি যৌথ সামরিক অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকালে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৬ বছর। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সামরিক, বিচার ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর তার ব্যাপক প্রভাব ছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

এদিকে খামেনির মৃত্যুর দাবির পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ঘটনার জেরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতিতেও পড়তে পারে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *