প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল ধর্মের মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান—বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী বা সংশয়বাদী—সবাই মিলেই ভালো থাকবো। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে।”
আজ শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন–এ অনুষ্ঠিত সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য আসে। অনুষ্ঠানে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৪,৯০৮ মসজিদ, ৯৯০ মন্দির এবং ১৪৪ বৌদ্ধ বিহারে মোট ১৬,৯৯২ জন মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। সরকার পর্যায়ক্রমে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকদেরও রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতে আগামী ১০ বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান–এর সময় দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী’ চালু হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া–এর সরকারের সময় ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু হয়েছিল। বর্তমান সরকারও ধর্মীয় নেতাদের যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কর্মসূচি গ্রহণ করছে।
তিনি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব ও দয়া অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন হতে পারে না। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রধানমন্ত্রী সব ধর্মের নাগরিকদের আহ্বান জানান, তারা তাদের শিক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগান এবং একটি নৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখুন।