ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমাকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতায় দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহের হলমালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সার্ভার সমস্যার কারণে ঈদের দিন অনেক প্রেক্ষাগৃহে টিকিট বিক্রি হলেও সিনেমা প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ দর্শকদের ভাঙচুরে আরও ক্ষতির সম্মুখীন হন প্রদর্শকরা।
এ পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির এক সভায় হলমালিকদের ক্ষতির দায় সিনেমাটির প্রযোজকের ওপর বর্তানোর দাবি জানানো হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক শিরিন সুলতানা ও প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল।
সভায় আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ক্ষতির যথাযথ সমাধান প্রযোজকের পক্ষ থেকেই আসতে হবে। একইসঙ্গে সমস্যার উৎস—পরিবেশনা, সার্ভার বা অন্য কোনো ত্রুটি—তা স্পষ্ট করতে হবে। বিষয়টি নির্ধারণের পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সিনেমাটির মুক্তি ও প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সমিতির সভাপতি। তার মতে, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত শুটিং চললে সিনেমার মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, শীর্ষ তারকার সিনেমা মুক্তির আগে যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, অন্যথায় মুক্তি না দেওয়াই উচিত।
ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে প্রদর্শক সমিতি কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সার্ভার ব্যবস্থাপনাকে সরকারি তত্ত্বাবধানে আনা এবং ঈদে মুক্তির ক্ষেত্রে অন্তত ১৫ দিন আগে চলচ্চিত্র সেন্সরে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।
এদিকে, অসম্পূর্ণ অবস্থায় ‘প্রিন্স’ সিনেমা কীভাবে সেন্সর ছাড়পত্র পেল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড প্রযোজকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে ‘প্রিন্স’ সিনেমাকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে।