বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অধিকতর অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রবিউল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এদিন মামলাটির অধিকতর অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আদালতের বিচারক মো. আব্দুস সালাম ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক নতুন করে ২ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন।
মামলায় মোট ২৮৬ জন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২৫৯ জন পলাতক রয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক আছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত একটি জুম মিটিংয়ে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করা হয়। ওই মিটিংয়ে একটি গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পলাতক শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে দেশ-বিদেশ থেকে মোট ৫৭৭ জন অংশগ্রহণ করেন এবং শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের হোস্টিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনা, হোস্ট, কো-হোস্ট ও অংশগ্রহণকারীদের কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনায় বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে না দেওয়ার আলোচনা উঠে আসে বলে অভিযোগে বলা হয়।
এছাড়া বর্তমান সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে গৃহযুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহের সুস্পষ্ট উপাদান পাওয়া গেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক।
পরবর্তীতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সিআইডির ওই কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে গত ১৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবিনা আক্তার তুহিন, ড. রাব্বি আলম, কবিরুল ইসলাম, এডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আজিদা পারভীন পাখি, এডভোকেট এএফএম দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক সংসদ সদস্য পংকজ নাখ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজান।
সুত্রঃ বাসস