মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বৈশ্বিক অর্থবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সংঘাতের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) এশিয়ার লেনদেন শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড–এর দাম একপর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। পরে কিছুটা স্থিতিশীল হলেও টোকিও সময় দুপুর পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোও নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু করে। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক প্রায় ২ শতাংশ কমে যায়। একইভাবে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পতনের মুখে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাবের আভাস পাওয়া গেছে। নিয়মিত লেনদেন সময়ের বাইরে স্টক ফিউচারসে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, যা ওয়াল স্ট্রিটে অস্থির পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক অনুসরণকারী ফিউচারস—উভয়ই প্রায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ করে কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে। এতে তেলের দাম আরও বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার কারণেই বাজারে এই নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।