ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল-এর হয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন শিমরন হেটমায়ার। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১০৭ রানের রেকর্ড জয় পায় ক্যারিবিয়ানরা। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-এর সুপার এইটে বড় ব্যবধানে জিতে তাদের নেট রানরেটও অনেকটা বেড়ে গেছে। বাকি দুই ম্যাচের একটি জিতলেই সেমিফাইনালের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
৩৪ বলে সাতটি চার ও সাতটি ছক্কায় ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন হেটমায়ার। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দল তোলে ২৫৪ রান, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ব্যাট হাতে দাপটের পাশাপাশি দুটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরাও হন তিনি। দুই স্পিনার আকিল হাসান ও গুডাকেশ মোটি মিলে সাত উইকেট নিলেও ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন হেটমায়ারই।
ম্যাচ শেষে নিজের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের রহস্য জানাতে গিয়ে এই বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, আগে অতিরিক্ত পরিকল্পনা ও আউট হওয়ার চিন্তায় ভুগতেন। এখন সেসব বাদ দিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে চেষ্টা করেন।
তার ভাষায়, “আমার ব্যাটিং নিয়ে এখন আর অতিরিক্ত চিন্তা করি না। আগে অনেক বেশি চিন্তা করতাম—পরিকল্পনা নিয়ে, আউট হওয়া নিয়ে। এখন কম চিন্তা করি এবং ব্যাটকে কথা বলতে দেই, পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখাই।”
ইতালির বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাত্র এক রান করে হতাশ ছিলেন হেটমায়ার। তাই এই ইনিংস তার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “শেষ ম্যাচে রান পাইনি। তাই এই ইনিংস আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক মাস ধরে যে প্রক্রিয়ায় কাজ করছি, সেটাই ধরে রাখার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত সেটা কাজে দিচ্ছে।”
তিন নম্বরে ব্যাটিং করেও বেশ স্বচ্ছন্দ তিনি। হেটমায়ার বলেন, “আমি কিছুদিন ধরেই এই পজিশনে খেলছি। ভূমিকা বুঝতে পারছি। পরিস্থিতি কেমন হতে পারে জানি। দলের সমর্থন আমাকে অনেক স্বস্তিতে রাখছে।”
সাতটি বিশাল ছক্কায় প্রতিপক্ষের মনোবলে আঘাত হানলেও ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না তিনি। তার লক্ষ্য দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।
হেটমায়ারের কথায়, “এমন কিছু অর্জন ভালো লাগে। কিন্তু দল হিসেবে আমরা এখনো কিছু অর্জন করিনি। এটা শুধু একটি ম্যাচ। আমাদের সামনে এখনো অনেক পথ বাকি। আমরা এক ম্যাচ করে এগোতে চাই।”