আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশে চলমান নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসাহব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বর্তমান প্রচারণায় কটু বক্তব্য বা অশালীন আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটের আর মাত্র চার দিন বাকি থাকায় সামনের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন হবে নিরাপদ ও উৎসবমুখর।
তিনি আরও বলেন, নারীরা পরিবারসহ আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন এবং এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সারা দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এ সময় ক্যামেরাগুলোর কার্যকারিতা সরাসরি প্রদর্শন করা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টা র্যান্ডমভাবে পাঁচটি স্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এ ছাড়া নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ নিয়েও আলোচনা হয়, যা নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো কেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে অ্যাপটির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো যাবে।
প্রেস সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন হয়েছেন। পাশাপাশি বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থী মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত থাকায় ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব আসনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৯ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
ডাকযোগে ভোট প্রসঙ্গে প্রেস সচিব জানান, প্রবাসী ভোটারদের পাঠানো ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রায় ৪০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, ৫০ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ১২০ জন বিদেশি সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া হটলাইন নম্বর ৩৩৩-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান প্রেস সচিব।
সুত্রঃ বাসস