গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে এক নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা হয়েছে। এই উদ্যোগ কৃষকদের মর্যাদা, অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু ও কৃষিভিত্তিক সভ্যতার গুরুত্ব আল কুরআনের বিভিন্ন সূরায় উল্লেখ রয়েছে। কৃষি উৎপাদন ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। সেই ধারাবাহিকতায় আজ কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি খাতে নতুন সূচনা হলো।” তিনি আরও বলেন, অতীতে ব্যাংকিং সেবা নিতে সাধারণ মানুষের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। কিন্তু এখন ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে, যা রাষ্ট্রের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।
তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনীতি ও কৃষি খাতে বিভিন্ন সময়ে গৃহীত উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার কৃষকদের কল্যাণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষিঋণ মওকুফ, সেচ ও সার সুবিধা বৃদ্ধি, বহুমুখী ফসল উৎপাদন এবং কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি এ খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে।
ড. তিতুমীর বলেন, “কৃষক, মৎস্যজীবী ও খামারিদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। পাশাপাশি সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি ফলজ, বনজ ও ভেষজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং খাল খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। নারীর অগ্রগতিকে উন্নয়নের প্রধান সূচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি টাঙ্গাইল সদর উপজেলাসহ ১০টি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর অংশ হিসেবে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে ১৫ জন কৃষক ও কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসসহ সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে কৃষি কার্ড হাতে খুশি কৃষক কৃষাণীরাও তারা জানান তাদের অনুভূতির কথা। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।