মন্টিলিভি স্টেডিয়ামে বড় ধাক্কা খেল FC Barcelona। স্বাগতিক Girona FC-এর কাছে নাটকীয় হারে শুধু ম্যাচই হারেনি কাতালান ক্লাবটি, লিগের শীর্ষস্থানও খোয়াতে হয়েছে তাদের।
শুরু থেকেই জিরোনা আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। হাই ডিফেন্সে উঠে বার্সাকে চাপে রাখলেও সেই রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি অতিথিরা। রাফিনিয়ার শট বাইরে চলে যায়, আর একক প্রচেষ্টায় গোলরক্ষক পাওলো গাজ্জানিগার সামনে একা পড়েও চিপ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন লামিন ইয়ামাল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দানি ওলমোকে ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টি পায় বার্সা। কিন্তু গাজ্জানিগা দারুণভাবে অবস্থান ধরে রাখেন, আর ওলমোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে—যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
বিরতির পর কিছুটা চাঙ্গা হয়ে মাঠে নামে বার্সা। অবশেষে জুলস কুন্দের ক্রস থেকে তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে সেই লিড স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ভিক্টর সিগানকভের পাস থেকে সহজ ফিনিশে সমতা ফেরান থমা লেমার। মুহূর্তেই ম্যাচে ফিরে আসে জিরোনা।
এরপর খেলা আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। বার্সা আক্রমণ বাড়ালেও জিরোনা ডিপ ডিফেন্স থেকে পাল্টা আক্রমণে ধার বজায় রাখে। গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের শেষ দিকে বক্সের প্রান্ত থেকে ফ্রান বেলত্রানের নিখুঁত শটে পূর্ণতা পায় জিরোনার নাটকীয় প্রত্যাবর্তন।
গোলের আগে জুলস কুন্দের ওপর ফাউলের অভিযোগ তোলে বার্সা খেলোয়াড়রা, তবে রেফারি সোটো গ্রাদো সেটি আমলে নেননি। সাইডলাইনে হতাশায় ভেঙে পড়েন কোচ Hans-Dieter Flick। যোগ করা সময়ে জোয়েল রোকা লামিন ইয়ামালের ওপর বেপরোয়া ট্যাকলের জন্য লাল কার্ড দেখেন, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত।
এই হারে শীর্ষস্থান হাতছাড়া করল বার্সেলোনা। অন্যদিকে জিরোনা প্রমাণ করল, শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষেও তারা সমান তালে লড়তে প্রস্তুত।