জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গরমের মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, আপাতত তিন মাসের জন্য সরকার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কোরবানি ঈদের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সূচিতে সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তারা সময়সূচি পুনর্বিবেচনার দাবি ও কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এর জবাবে মন্ত্রী সাময়িক এই পরিস্থিতিতে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন।
এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংক লেনদেন হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত।
একই সঙ্গে দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জরুরি সেবা এ বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।
সরকার বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি সময়সূচি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে দোকান খোলার সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টা এবং বন্ধের সময় রাত ৮টা পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেয়।
সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।