দেড় বছরের চরম রাজনৈতিক চাপ ও অসহযোগিতার মধ্য দিয়ে অবশেষে দেশের সামনে চরম সত্য উন্মোচন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক রোমহর্ষক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ, সংবিধান লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রপতির পদকে অবমাননা করার পরিকল্পনা।
ড. ইউনূসের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানান, রাষ্ট্রপতির অধীনে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি চরম অসাংবিধানিকভাবে কাজ করেছেন। সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, সরকারপ্রধান বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করবেন। কিন্তু ড. ইউনূস গত দুই বছরে অন্তত ১৪–১৫ বার বিদেশ সফর করলেও একবারও বঙ্গভবনকে জানাননি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
সংবিধান লঙ্ঘন করে ড. ইউনূস ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেন, যা কার্যত তার স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
রাষ্ট্রপতিকে সরানোর চক্রান্ত
অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে কিছু মহল রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। ড. ইউনূসের একজন উপদেষ্টা বেআইনিভাবে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির স্থলাভিষিক্ত করার প্রস্তাব এনেছিলেন। তবে বিচারপতির সততা ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধের কারণে এটি ব্যর্থ হয়।
বঙ্গভবন ঘেরাও ও লুটপাটের পরিকল্পনা
গত ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের অরাজকতার পেছনের সত্যও রাষ্ট্রপতি ফাঁস করেছেন। ভাড়াটে ও ছিন্নমূল লোকজন এনে ঘেরাও ও লুটপাটের ছক কষা হয়েছিল। সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ এবং কাঁটাতারের ওপর পড়ে ছবি তোলার মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের নাটক সাজানো হয়েছিল। এই রাতে ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বা খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনই মনে করেননি।
প্রতিহিংসাপরায়ণতার চরম উদাহরণ
ড. ইউনূসের সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি এতটাই প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিল যে:
-
সারাবিশ্বের বাংলাদেশ মিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানো হয়
-
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রতিনিধিত্ব করতে দেওয়া হয়নি
-
বিদেশ সফর বাতিল করা হয়
-
বঙ্গভবনের পুরনো প্রেস উইংয়ের সদস্যদের প্রত্যাহার করে রাষ্ট্রপতিকে জনগণের থেকে আড়াল করা হয়
-
জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্রে রাষ্ট্রপতির বাণীও বন্ধ করা হয়
সংবিধান রক্ষায় রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনী
সব ধরনের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন হিমালয়ের মতো অটল ছিলেন। তিনি বলেন:
“আমার রক্ত ঝরে যাবে বঙ্গভবনে। রক্ত ঝরে ঝরুক। কিন্তু আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব।”
রাষ্ট্রপতির সাহসিকতাকে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বিএনপি। তিন বাহিনীর প্রধানরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পতন মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীর পতন, যা তারা রোধ করবেন।
উপসংহার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অটল নেতৃত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থন এবং বিএনপির সাংবিধানিক রাজনীতি মিলিত হয়ে ড. ইউনূস সরকারের অসাংবিধানিক চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।