কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চেয়ারপার্সন ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা অ্যাডো আকুফো-অ্যাডো বলেন, নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য জনগণ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (বিইসি), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে।
কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে ১৩ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল গঠন করেছেন, যেখানে রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন প্রশাসনের বিশেষজ্ঞরা ছিলেন। দলটি নির্বাচনের আগে দেশের আটটি বিভাগে গিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রচারণা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোটকেন্দ্রগুলো সময়মতো খোলা ছিল, ভোটগ্রহণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, ভোটার তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত ছিল, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক সারি ব্যবস্থাপনা ছিল এবং অধিকাংশ কেন্দ্রে একাধিক লাইন ব্যবস্থাপনা কার্যকর ছিল। ভোটকেন্দ্র থেকে ফলাফল প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর ও সমন্বিত ছিল, এবং প্রবাসী ভোটার ও কারাবন্দিদের জন্য ডাকযোগে ভোট প্রদানের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা নারী ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন, তবে নারী প্রার্থীর হার মাত্র চার শতাংশ এবং মাত্র সাতজন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য অনলাইন হয়রানি এবং রাজনৈতিক দলের কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার সুপারিশ করেছেন।
দলটি উল্লেখ করেছে যে, রাজনৈতিক কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া নির্বাচন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ ভোটারদের সহায়তা করেছেন।
‘জুলাই সনদ’ গণভোট প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এটি জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ হলেও কিছু অংশীজন এর পরামর্শমূলক গভীরতা ও যোগাযোগের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে প্রাণবন্ত ও সক্রিয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক আলোচনাকে শক্তিশালী করেছে। দলটি নির্বাচনের পর কিছু বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার খবর স্বীকার করে শান্তি ও আইনসম্মত বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।
পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মহাসচিবের কাছে জমা দেবে, যা সরকারের, নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় অংশীজনদের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। আকুফো-অ্যাডো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ঐক্য ও উদারতার আহ্বান জানান।