চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা- কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত জামায়াতের কর্মী ও ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক হাফিজুর রহমান(২৫) নিহত ও উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। এছাড় নিহত হাফিজুরের বড় ভাই এবং বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকেও ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইডিউতে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে এ মৃত্যু খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ঘটনা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যার পর উপজেলার হাসাদহ বাজারের কামিল মাদ্রাসার সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত হাফিজুর মফিজুর হমান (২৫) একই উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে এবং বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ছোট ভাই।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয় জামায়াতের আমীর হাফিজুর রহমান (৪৫),তার ঋোট ভাই হাফিজুর রহমান (২৫) জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম(৫০) ও মাহফুজ(২৫) এছাড়া হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান (৩৫) ও তার বাবা জসীম উদ্দীন(৬০)। আহতদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে জামায়াতের ইউনিয়ন আমীর মফিজুর ও তার ছোট ভাই হাফিজুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত ১ টার দিকে হাফিজর রহমান(২৫) মারা যায় এবং মফিজুর রহমানকে ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থাও শঙ্কামুক্ত নয়।
এব্যপারে জামায়াতের জেলা আমীর ও চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের এমপি রুহুল আমীন ও ১ আসনের এমপি মাসুদ পারভেজ জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুটিয়া গ্রামের বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমানসহ জামায়াত কর্মী খাইরুল ও মাহফুজ মটর সাইকেলে হাসাদহ বাজারের জামায়াত কার্যালয়ে আসার সময় কামিল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসানসহ তার দলবল পরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ জামায়াত নেতা-কর্মীধের উপর এদেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে । আমরা এর তিব্র নিন্দা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জানচ্ছি। এমপি আরো জানান, মরহুম হাফিজুরের মরদেহের ময়না তদন্তের পর এঘটনার সাথে জড়িত দোষী ব্যাক্তিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে উপযুক্ত বিচারের দাবীতে আজ রোববার সকাল ১০ টায় জীবনগরে বিক্ষোভের মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকোন জানায়, হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান নির্বাচনের একদিন পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলার সুটিয়া গ্রামে গেলে ওই সময় সুটিয়া গ্রামের জামায়াত কর্মী সোহাগ, হাফিজসহ গ্রামবাসীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরই জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সোলাইমান হক জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। এছাড়া নিহতের মরদেহের ময়না তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা ও ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিধের আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।