তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের উচিত দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়ানো।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ক্রীড়া এখন আর শুধুমাত্র বিনোদন বা শরীরচর্চার বিষয় নয়; বরং এটি একটি স্বীকৃত পেশা। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদদের জন্য বেতন কাঠামো চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, খেলোয়াড়রা যেন আর্থিক অনিশ্চয়তা ছাড়াই নিজেদের পছন্দের খেলায় মনোযোগ দিতে পারেন, সে জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে নীতিমালা প্রণয়ন করছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ভাতা প্রদানের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেম, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং দলগত মনোভাব থাকলে খেলোয়াড়দের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। পরাজয়কে সাফল্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আলবার্ট আইনস্টাইন-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি কখনো ব্যর্থ হয়নি, সে কখনো নতুন কিছু করার চেষ্টা করেনি।
সরকারের অন্যান্য উদ্যোগের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি, যা আগামী ১৪ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ প্রতিপাদ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্যও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, সোনালী ব্যাংকের অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের সম্মাননাও দেওয়া হয় এ সময়।
সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।