দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় স্থায়ী রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ‘জুলাইযোদ্ধাদের’ আইনি সুরক্ষা বা ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) প্রদান এবং বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আন্দোলনে যারা বীরত্বের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন, তাদের জন্য দেওয়া ইনডেমনিটি সরকার গ্রহণ করবে এবং তাদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইতোমধ্যে ১৫ দিন অতিবাহিত হয়েছে, বাকি সময়ের মধ্যেই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনমতের ভিত্তিতে বিতর্কিত নামগুলো পরিবর্তন করা হবে এবং এ বিষয়টি আজকের বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্যসূচি।
এদিকে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সিনিয়র নায়েবে আমির মো. মুজিবুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের জন-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে কোনো অধ্যাদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা জনস্বার্থবিরোধী হলে সে বিষয়ে দলটি জোরালো মতামত দেবে।
সংসদ ভবনে চলমান এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। বৈঠক শেষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।