আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, ঈদকে সামনে রেখে জাতীয় মহাসড়ক, গুরুত্বপূর্ণ করিডোর এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মেরামত ও সংস্কার কাজ ঈদের অন্তত ১০ দিন আগেই সম্পন্ন করা হবে।
যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এসব টার্মিনালকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে, যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, উপজেলা, জেলা ও মেট্রোপলিটন সড়ক নিরাপত্তা কমিটিগুলো ঈদের আগে সভা করে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন প্রতিরোধে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
পাশাপাশি সড়কের পাশে অস্থায়ী ও ভাসমান বাজার অপসারণ এবং পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যানজট কমাতে টোল প্লাজাগুলোতে সার্বক্ষণিক ইটিসি বুথ চালু রাখা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন ঈদ উপলক্ষে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যান ছাড়া ঈদের আগে তিন দিন এবং ঈদের পর তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে।
ঈদ উপলক্ষে সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ আগের সাত দিন এবং পরের পাঁচ দিন সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ তৈরি না হয়।
ঈদযাত্রা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য ঈদের তিন দিন আগে থেকে ঈদের পর তিন দিন পর্যন্ত মোট সাত দিনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ১৬১০৭ এবং মোবাইল নম্বর ০১৫৫০০৫১৬০৬ ও ০১৫৫০০৫৬৫৭৭।
সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাই আরও বেশি তৎপর থাকবে। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করবে, যা ব্যবস্থাপনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সড়কে চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ সময় শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, গতবার প্রশাসন, মালিক-শ্রমিক, সাংবাদিক ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সফলভাবে ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়েছিল। অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আরও ভালোভাবে ঈদযাত্রা পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।