পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধি দল দেশটি ত্যাগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, “এটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্য বেশি খারাপ খবর।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় চলমান দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
রোববার সকালে আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্সের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে এবং এ ধরনের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা না করে। তবে ইরান এসব শর্ত মানতে রাজি হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ পর ‘এয়ার ফোর্স টু’ উড়োজাহাজে করে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন ভ্যান্স।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত’ দাবির কারণেই আলোচনা ভেস্তে গেছে।
তবে ইরান সরকার জানিয়েছে, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উভয় পক্ষের প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে নথিপত্র বিনিময় অব্যাহত রাখবেন।
উল্লেখ্য, ইরানের ইসলামিক বিপ্লব-এর পর এই প্রথম এত উচ্চপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। পাশাপাশি, এক দশকেরও বেশি সময় পর এটি ছিল দুই দেশের প্রথম সরাসরি শান্তি আলোচনা।