প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনের আগেই উপকারভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা জমা হওয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালী-র টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠ-এ অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়ই পাশের কড়াইল বস্তি-র নিম্নআয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। অনেকের মোবাইল ফোনে অর্থ জমা হওয়ার সরকারি বার্তা পৌঁছানোর পর অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়।
আসন্ন ঈদুল ফিতর-এর আগে সরাসরি রাষ্ট্রীয় এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে অনেক অসহায় মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রুও দেখা গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব ছাড়াই সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা অনেকেই জানান, তারা এই অর্থ দিয়ে নিজেদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে চান। কেউ ওষুধ কিনবেন, আবার কেউ সামান্য কিছু সঞ্চয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবার ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি টাকা জমা হওয়ায় উপকারভোগীদের আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না।
সরকার বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত দুস্থদের তথ্য যাচাই করে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত হকদাররা যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই এই সহায়তা পান, সে ব্যবস্থাই নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারের আশা, এই উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে কড়াইল বস্তিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা এই অর্থ সহায়তাকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সফলতা পেলে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।