পার্বত্য জেলা রাঙামাটি–এর বাঘাইছড়ি উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে আশাব্যঞ্জক সাফল্য এসেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে মাঠজুড়ে তরমুজের পাশাপাশি শাম্মাম ও বাঙ্গীরও বাম্পার ফলন দিয়েছে।
স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, গত ৫–৮ বছরের মধ্যে এবারই ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে। সময়মতো সেচ এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে অধিকাংশ জমিতে তরমুজের আকার ও গুণমান সন্তোষজনক। তবে উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় বেশি হওয়ায় কৃষকরা ন্যায্য বাজার দর পাওয়ার বিষয়ে শঙ্কিত। বাজার দর স্থিতিশীল থাকলে তারা ভালো মুনাফার আশা করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। পুঁজি বা অর্থের অভাবে উপজেলা এলাকার বেশ কিছু জমি অনাবাদি আছে। চাষিরা অভিযোগ করেন, চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা, বিশেষ করে সার, উন্নত বীজ ও কীটনাশক সময়মতো পাননি। তারা মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি বাড়ালে অনাবাদি জমিগুলোও চাষের আওতায় আনা সম্ভব।
বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নূর আলম জানান, “এ বছর উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩ হেক্টর বেশি।” তিনি আরও বলেন, সরকারি সহায়তা বা ঋণের জন্য কৃষকরা আবেদন করলে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা, সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাঘাইছড়ির তরমুজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও সরবরাহ করা সম্ভব। এতে পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।