আজ ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ২৮ ও ২৯ এপ্রিল আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শেষ দিনে একই মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করেন ৩ শতাধিক শিল্পী।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় আয়োজনগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-এর মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চা অপরিহার্য। তিনি জানান, আগামী দিনে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলার কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করে পর্যটন খাতেও সম্ভাবনা তৈরির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
স্বাগত বক্তব্যে একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক জাগরণ আরও বেগবান হবে।
রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী দিনে ২৩টি দল সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন রূহী আফসানা দিপ্তী। পরবর্তীতে কথক নৃত্য সম্প্রদায়, নৃত্যদল ভাবনা, অংশী, নৃত্যায়ন, বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস, স্বপ্নচূড়া কালচারাল একাডেমি, নৃত্যসুর, আরাধনা নৃত্যদল, সুকন্যা নৃত্যাঙ্গন, আট্রিস্ট্রি সহ বিভিন্ন দল পরিবেশনায় অংশ নেয়।
এছাড়া ‘মাস্ত কালান্দার’, ‘কাছারক নৃত্য’, ‘মিরা ভজন’, ‘আল্লাহ মেঘ দে’, ‘আমার ঘরখানায়’, ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’, ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি’ ও ‘ফুল ছড়ানোর পালা’সহ নানা বৈচিত্র্যময় নৃত্য উপস্থাপন করা হয়।
সবশেষে অ্যালিফিয়া ডান্স এটেলিয়ারের ‘ইন্সট্রুমেন্টাল’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনের এ আয়োজনের পর্দা নামে।