আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে। ভোটের আগে চারদিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুইদিনসহ মোট সাতদিন তারা দায়িত্ব পালন করবে। এ হিসাবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসস’কে জানান, রোববার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে থাকলেও আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করবে। ভোটের চারদিন আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী দুইদিন মিলিয়ে মোট সাতদিন বাহিনী দায়িত্বে থাকবে।
ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো।
নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার জানান, সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাতদিন এবং আনসার বাহিনী আটদিন দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই মাঠে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটিও মাঠে কাজ করছে।
ইসি সচিব জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় বন্ধ হয়ে যাবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এবার কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ছয়জন করা হবে।
এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনে সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সুত্রঃ বাসস