২০ বছর পর আবারও সরকার গঠন করে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে প্রায় দেড় বছর পর পুনরায় নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের যাত্রা শুরু হলো।
মঙ্গলবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলের নেতা হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায়, খোলা আকাশের নিচে। বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। পরে পর্যায়ক্রমে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। সব মিলিয়ে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় দেখা গেছে।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১,২০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ভারত, চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেন।
উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে ৬৮টি আসন পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
শপথ শেষে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা শপথ বইয়ে সই করেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সমর্থকেরা সংসদ ভবন এলাকায় জড়ো হয়ে নতুন সরকারকে স্বাগত জানান।
এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সাধারণ মানুষের।