জুলাই জাতীয় সনদকে অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সনদটিকে দলীয় ইশতেহারে রূপ দিয়ে এর মূল গুরুত্ব নষ্ট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। সনদে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে কোনো দল নির্বাচনে জয়ী হলে নিজেদের ইশতেহার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে—এতে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংবিধানকে দলীয় ইশতেহারে রূপ দিয়েছিল, আর এখন বিএনপি একইভাবে জুলাই সনদ ব্যবহার করছে। তার মতে, জুলাই গণভোট ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও গণরায়, যার ভিত্তিতে দ্রুত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন ছিল।
রাজনীতিতে বিভাজনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি’—এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পরও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় তিনি আর্থিক খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে, যার বেশিরভাগই সরকারি দলের। এই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা দিতেই একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর তথ্য উদ্ধৃত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারি দলের নির্বাচনী প্রার্থীদের ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। নির্বাচনের আগে আংশিক অর্থ পরিশোধ করে তারা ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন এবং পরে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সবশেষে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ দেশের ভিত্তি—এটি নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহার করে বিভাজন তৈরি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।