সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সদ্যবিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ১০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন এ ধরনের কম্পন বড় ধরনের দুর্যোগের পূর্বাভাসও হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মহানগরীতে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ফেব্রুয়ারিতে একাধিক ভূমিকম্প
চলতি ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ভূকম্পন অনুভূত হয় ১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহর থেকে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।
৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যেগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। ওই দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ এবং ৫ দশমিক ২।
একইদিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় উৎপত্তিস্থল থাকা আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দুটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ ও ৪। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় উৎপত্তিস্থল থাকা ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়।
সবশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এর কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং গভীরতা ছিল মাত্র ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার, যা অগভীর হওয়ায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়।
সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ১০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঘন ঘন এ ভূমিকম্পে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।