রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সকালে মৃদু কম্পনের পর দুপুরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক স্থানে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য দ্রুত খোলা জায়গায় নেমে আসেন।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপীয়-মধ্যপ্রাচ্যীয় ভূ-তাত্ত্বিক কেন্দ্র (EMSC)-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে খুলনা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার। শক্তিশালী এই কম্পন কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও অনুভূত হয়। কম্পনের সময় ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ভবন থেকে বের হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন।
এর আগে, একই দিন সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে কুষ্টিয়া ও পাবনা সীমান্তবর্তী এলাকায় ৩.৮ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ৫০৩ কিলোমিটার। অধিক গভীরতায় উৎপত্তি হওয়ায় এই কম্পন তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হলেও দুপুরের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে কম্পন অনুভূত হলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়ায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় ভবন নির্মাণে যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।