বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু।
শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বৈঠকের সময় এক ভিডিওবার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানে আমাদের অভিযান এখনও শেষ হয়নি, সামনে আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে। তবে এখন পর্যন্ত যা অর্জন হয়েছে, তা ঐতিহাসিক।”
তিনি দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বলেই এই সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। তার ভাষায়, “যদি তারা এই সক্ষমতা অর্জন করত, তাহলে প্রতিদিন শত শত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারত, যা আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াত।”
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান তা ধ্বংস করতে না পারে। “এই অবস্থায় আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারতাম না,”—যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত দুই দশক ধরে দেশটির সঙ্গে বিরোধ চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে।
পরবর্তীতে উত্তেজনা প্রশমনে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকে। তবে ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং সামনে আরও অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “ইরান হয় আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসবে, নয়তো অন্য উপায়ে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করা হবে।”