মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট দুই শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা শুরু করা হবে না। এ কথা জানিয়েছেন দেশটির সংসদ স্পিকার মোহাম্মাদ বাকের কলিবফ।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পূর্বে যেসব বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল, তার মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। প্রথমত, লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আলোচনার আগে ইরানের আটক সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই দুই শর্ত পূরণ না হলে কোনো আলোচনা অর্থবহ হবে না। তাই সংলাপ শুরুর আগে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় তেহরান।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, মার্কিন প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তবে এখনো ইরানের প্রতিনিধিদল যাত্রা করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ-এ ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসি-তে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই শর্ত আরোপ আঞ্চলিক কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সম্ভাব্য সংলাপের পথকে অনিশ্চিত করে তুলছে।