বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তারা আপসহীন থাকবেন।
রোববার রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে জামায়াত আমির তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, তারেক রহমানের এই সফর জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান, যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ওপর পরিচালিত হবে।
বৈঠকে তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। এ আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো নাগরিক যেন ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন—এটাই সবার প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে জামায়াত সমর্থন দেবে। তবে যেখানে জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে তারা সোচ্চার থাকবে। তাদের লক্ষ্য সংঘাত সৃষ্টি নয়, বরং সংশোধন ও গঠনমূলক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।
দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।