ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে পরাজিত হলেও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ডা. খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী। তিনি এই আসনে তারেক রহমান, বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
নির্বাচনে তারেক রহমান ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। আর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮,৩০০ ভোট।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী না এলেও, আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সম্মানের সঙ্গে আপনাদের সবার প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অল্প সময়ের মধ্যে যে ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা আপনারা একজন ‘চিকিৎসক’ খালিদকে এবং আমার সংগঠনকে দিয়েছেন; এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
তিনি বলেন, “কাল হতে সারাদেশে যে নীরব দৃশ্যপটের সাক্ষী আপনারা হয়েছেন, মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ঢাকা-১৭ নিশ্চয়ই তার বাইরে নয়। অনেক জায়গায় আমরা সামান্য ভোটে পিছিয়ে থেকেছি। কিন্তু এই অল্প ব্যবধানই প্রমাণ করে— মানুষ পরিবর্তন চায়, মানুষ বিকল্প চায়, মানুষ নীতিভিত্তিক রাজনীতি চায়। এই জাগরণই আমাদের শক্তি।”
খালিদুজ্জামান আরও বলেন, “আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আমাদের ত্যাগী নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের, যারা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন, অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন, তবুও আদর্শ থেকে সরে যাননি। আপনাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না, ইনশাআল্লাহ। আজ ফলাফল যাই হোক, মানুষের আস্থা অর্জনের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা থামবে না। যারা কষ্ট করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমাদের ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন, সেটাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পুঁজি।”
তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “বিজয় মানে কথা রাখা আর প্রত্যাশা পূরণের এক মহা পরীক্ষার সূচনা। আমি আশা করি, তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন। আমাদের আরও গোছালো হতে হবে, আরও দক্ষ হতে হবে, আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। যোগ-বিয়োগের খেলায় আমি হেরে গেলেও আপনারাই বিজয়ী হয়েছেন। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো— ইনশাআল্লাহ।”
খালিদুজ্জামান তার পোস্টের শেষাংশে বলেন, “মুমিনদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল রাখুন।”