খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নববধূ, বরসহ দুই পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রাম থেকে নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতুকে নিয়ে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শ্যাওলাবুনিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন বর মো. সাব্বির। তাদের সঙ্গে দুই পরিবারের আরও ১৩ সদস্য মাইক্রোবাসে করে যাত্রা করছিলেন।
পথে রামপাল উপজেলার খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ জানান, নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর সাব্বির (৩০), নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু (২৫), মিতুর নানি আনোয়ারা (৭০), দাদি রাশিদা বেগম (৭৫), বোন লামিয়া (১২), বরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), মা আঞ্জুমান বেগম (৬০), বরের ভাবি পুতুল (৩৫), আলিফ (১২), বরের বোন ঐশি (৩০), ঐশির স্বামী সামিউল, আব্দুল্লাহ সানি (১২), দেড় বছরের শিশু ইরাম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম (৪০)।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ জানান, নিহতদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত একজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৪টার দিকে মোংলা থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
খুলনা হাইওয়ে পুলিশের সুপার মো. জাকারিয়া জানান, দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তার অবস্থাও গুরুতর।
ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।