ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথম দফায় শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার (আজ) বেলা পৌনে ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে সিইসি শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালন করেন, যদিও প্রচলিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নতুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সকাল ৯টার পর থেকেই নবনির্বাচিত সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনে আসতে শুরু করেন। বাইরে সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯৭টি ঘোষিত আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি আসন পেয়েছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে। বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট এবং জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।