দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দুই বছর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সারাদেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনের সচিব।
সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব জানান, সারাদেশে মোট ২৯৯টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক গণনা শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এবারের নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ২টি আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত থাকবে বলে জানায় ইসি।
সবশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি ইতোমধ্যে ২১২টি আসনে জয়ী হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট ৭৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবারই প্রথমবারের মতো ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার এই চার্টারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয় একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। পাশাপাশি বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে ‘সন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের অধীনেই দীর্ঘ ১৮ মাস পর এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“আজকের দিনটি নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।”