চব্বিশের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে ফেলা ও অপর একজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় আরও সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দুই আসামিকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং একমাত্র রাজসাক্ষীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন—ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস এবং সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।
এ ছাড়া সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার একমাত্র রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হককে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ একাধিক প্রসিকিউটর অংশ নেন। চার আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে একজন জীবিত থাকলেও তাকেও হত্যা করা হয়।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত এটি তৃতীয় রায়।
সুত্রঃবাসস