দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং এর দাম বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাজারের উদ্বেগ নিরসন ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে কৌশলগত পর্যালোচনা সভা শেষে মঙ্গলবার এ আশ্বাস দেন তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জানান, সরকারি অভ্যন্তরীণ তথ্য এবং বাজার সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে বলা যায়—দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতার কারণে কিছু জায়গায় সাময়িক সংকট ও দামের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি জানতে বাণিজ্য সচিবকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। সেখানে বড় খুচরা বিপণি প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন ও বেস্ট বাই ঘুরে তিনি পর্যাপ্ত ভোজ্যতেলের মজুত দেখতে পান এবং নির্ধারিত দামেই বিক্রি হতে দেখেন।
তবে বাজারের ভেতরের কয়েকটি ছোট দোকানে গিয়ে কিছু খুচরা বিক্রেতাকে তেলের সংকটের কথা বলতে শোনা যায়। এক দোকানে মাত্র দুটি ৫ লিটারের বোতল লুকিয়ে রেখে প্রতি লিটারে ২–৩ টাকা বেশি নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখেন মন্ত্রী।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি বাজারে গিয়েছিলেন একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে—ম্যাজিস্ট্রেট বা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হিসেবে নয়। তবে কেউ অতিরিক্ত দাম নিলে বা মজুতদারি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ক্রেতাদের মধ্যে অযথা প্রতিযোগিতা ও আতঙ্কে বেশি কেনাকাটা করলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেয়।
বাজার তদারকি জোরদারের বিষয়ে তিনি জানান, আগামীকাল থেকেই নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। এ জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-কে কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনগুলোকে স্থানীয় বাজার তদারকি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের গুজবও নাকচ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই এবং খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্রিফিং শেষে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য কিনতে হবে। অযথা বেশি কিনে মজুত করলে অন্য ভোক্তারা বঞ্চিত হন এবং বাজারে কৃত্রিম সংকটের ধারণা তৈরি হয়।
তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, দাম একটুও বাড়বে না।”