মোঃ শাহাজালাল ভূঁইয়া উজ্জ্বল : জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে “সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের মানুষদের কাছে সহজে আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া। যারা খরচ, দূরত্ব ও আইনি সচেতনতার অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন, তাদের জন্য এই ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ সকালে কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইন ও বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। এতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে জিআইজেড বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। যাদের আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তারা ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করলেই সহায়তা পেতে পারেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সরকারনির্ধারিত প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করে।
তিনি আরও জানান, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর হাত ধরে দেশে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর উদ্যোগে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে অধিদপ্তরে উন্নীত করার অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, লিগ্যাল এইড সুবিধা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, এই উদ্যোগের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে, যাতে প্রান্তিক মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী দু’জন নারীকে তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ প্রদান করেন এবং বস্তিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচারে সমতা নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক আইনি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিআইজেড বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘অ্যাক্সেস টু জাস্টিস ফর উইমেন’ প্রকল্পের আওতায় প্যারালিগ্যালদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আইনি সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া নারী-নেতৃত্বাধীন কমিউনিটি মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৬ হাজারেরও বেশি বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব এম এ আউয়াল এবং জিআইজেড-বাংলাদেশের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর (গভর্ন্যান্স) মার্টিনা বুকার্ড।
জানা গেছে, আইনি সহায়তা সহজলভ্য করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নয়টি স্থানে পর্যায়ক্রমে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। এসব ক্যাম্পে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেলভুক্ত আইনজীবীরা বিনামূল্যে পরামর্শ দেবেন এবং প্রশিক্ষিত প্যারালিগ্যালরা সেবাগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।