১০ মার্চ, ২০২৬ তারিখ নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অসামাজিক কার্যকলাপের সময় টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে মিতুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে তদন্তকারী দল। এই ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নওগাঁর বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুর নামের এক ব্যক্তির বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে মিতু বানুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ২৬ জানুয়ারি জাহান আলী নামে এক ব্যক্তি বাড়ির মালিককে ট্যাংকের ভেতর লাশ থাকার বিষয়টি ফোনে জানিয়েছিলেন। এই নৃশংস ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিরুনি অভিযান চালায় পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৭ মার্চ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন,
১. জাহান আলী
২. সামিদুল
৩. সুজ্জাত
৪. রেন্টু ইসলাম
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে অবস্থানকালে টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে মিতু চিৎকার শুরু করেন। এ সময় লোকলজ্জার ভয়ে আসামি রেন্টু ইসলাম মিতুর মুখ ও গলা চেপে ধরেন এবং অন্য আসামিরা তার হাত-পা চেপে ধরেন।
শ্বাসরোধের ফলে মিতু নিস্তেজ হয়ে মারা গেলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রেন্টু ইসলামের পরামর্শে মরদেহটি গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আসামি সামিদুল আজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান,”নওগাঁ জেলা পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বদা আপসহীন। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”