খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক তাণ্ডবের ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া আকস্মিক এই ঝড়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
ঝড়ের তীব্রতায় খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের মুসলিমপাড়া, রসুলপুর ও বাইল্যাছড়ি বুদুংপাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় অসংখ্য বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে। এতে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রসুলপুর ও বুদুংপাড়া এলাকায় দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
ঝড়ের সময় রসুলপুর এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে। অনেক কেন্দ্রে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা নিতে হয়েছে।
গুইমারা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী ঐশী বড়ুয়া জানায়, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকার ও আতঙ্কের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে হয়েছে। আরেক পরীক্ষার্থী রুবি আক্তার বলেন, ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের শব্দে ভীতিকর পরিবেশে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
এদিকে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা সড়ক বন্ধ থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। গুইমারার রূপনা কর্মকার জানান, দুপুরের পরীক্ষায় অংশ নিতে বের হয়ে তারা দীর্ঘ সময় সড়কে আটকা ছিলেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ঝড়ে বহু ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। একটি গাছ ঘরের ওপর পড়ে এক কৃষকের গরু মারা গেছে। স্থানীয়রা সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং সড়ক থেকে গাছ অপসারণে প্রশাসন কাজ করছে।