ঢাকা: কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না সরকার—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কিছু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময় বেশি লাগতে পারে, তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
বুধবার রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল এলাকায় বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক—এটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী Zubaida Rahman বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী A Z M Zahid Hossain।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন, বেদ, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠ করা হয়। পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। কার্ড বিতরণের পর তিনি ল্যাপটপে একটি বাটন চাপলে সঙ্গে সঙ্গে উপকারভোগীদের কাছে নগদ অর্থ পৌঁছে যায়। এ সময় করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি দায়িত্বশীল প্রশাসন হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করতে চায় এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনের আগে Bangladesh Nationalist Party দেশের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আল্লাহর রহমতে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা এই প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি।”
নিজেদের নির্বাচনী স্লোগান ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনি চাইলে আমি এই প্রতিবেদনের ৫টি সংক্ষিপ্ত নিউজ হেডলাইনও তৈরি করে দিতে পারি।