বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা দেড় মাস বয়সী নবজাতক শিশুটিকেও কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে তারা মুক্তি পান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে জামিন মঞ্জুর হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে বিচারকের সই সম্পন্ন না হওয়ায় তাৎক্ষণিক মুক্তি সম্ভব হয়নি। ফলে মা ও শিশুকে এক রাত কারাগারেই কাটাতে হয়। পরে বুধবার সকালে নথিপত্রে সই সম্পন্ন হলে তা দ্রুত কারাগারে পাঠানো হয় এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির একাধিক ধারার মামলায় শিল্পী বেগমকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চাঁনখারপুল এলাকায় এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে বাদীর বাসায় হামলা চালায়। এতে ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলায় একজন গুরুতর আহত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেল হাজতে রাখার আবেদন মঞ্জুর করেন।