এটি লক্ষণীয় যে প্রধানমন্ত্রী ঈদের ছুটিতেও পুরোপুরি বিশ্রামে ছিলেন না। 5ঈদের ছুটিতে গুলশানের বাসভবন থেকে সরকারি জরুরি কাজ সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সিটি করপোরেশনেরও খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এমনকি 5সরকারি ছুটি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করেছেন। তিনি ফার্মার্স কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভাসহ মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন।
এটি তারেক রহমানের প্রায় ১৯ বছর পর দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো ঈদ উদযাপন — যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ। 20কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের আইএমএফ প্রতিনিধি দল ২৩ মার্চ ঢাকায় পৌঁছেছে, যারা ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় এসেছেন — যা গত নভেম্বর থেকে স্থবির ছিল।
এই প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে কর্মসূচি ও সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করবেন।
আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির পটভূমি:
- বাংলাদেশ ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ সালে কোভিড মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আইএমএফের সাথে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে।
- আইএমএফ পরবর্তীতে গত বছরের জুনে কর্মসূচি ছয় মাস বাড়ায় এবং ৮০০ মিলিয়ন ডলার যোগ করে মোট প্যাকেজ ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে।
- এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচটি কিস্তিতে ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।
- এখনও ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার বিতরণ বাকি রয়েছে।
- আইএমএফ গত ডিসেম্বরে আরেকটি কিস্তি ছাড়ের কথা ছিল, কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তা স্থগিত রাখা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইএমএফ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নতুন প্রশাসনের কর্মসূচির প্রতি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে স্পষ্টতা চাইবে। 11 অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিকতর স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার গ্রহণ। 11 কর্মকর্তারা মনে করেন, আইএমএফের সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এবং বিএনপি সরকার সম্মত শর্তগুলো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে বাংলাদেশ জুনের মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাবে। 20 এপ্রিলে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বসন্ত বৈঠকের পাশে আরও আলোচনা প্রত্যাশিত এবং সেসব আলোচনার পর একটি নিয়মিত আইএমএফ মিশন ঢাকায় আসতে পারে পরবর্তী ১.৩ বিলিয়ন ডলার কিস্তি ছাড়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে।
বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা “যানজট” নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নেবেন। ঢাকার যানজট সমস্যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ — এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনোযোগ একটি ইতিবাচক সংকেত।
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় অংশ নেবেন। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় ও প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হওয়ায় এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বিকেলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।দিনের শেষ ভাগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
ঈদ-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনবদ্ধ কর্মসূচি — বিশেষ করে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক — ইঙ্গিত দেয় যে সরকার দ্রুততার সাথে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করতে তৎপর। আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় এবং দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের গতিপথ এই আলোচনার ফলাফলের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করবে।